জলাতঙ্ক এমন একটি ভয়ংকর রোগ, যার নাম শুনলেই অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে যান। কিন্তু আসলে জলাতঙ্ক কী? খুব সহজভাবে বললে, জলাতঙ্ক হলো একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। এই রোগটি একবার পুরোপুরি শরীরে ছড়িয়ে গেলে প্রায় নিশ্চিতভাবেই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। তাই এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
জলাতঙ্ক রোগের মূল কারণ হলো রেবিস ভাইরাস। এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে ধীরে ধীরে স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায় এবং মারাত্মক ক্ষতি করে। প্রথমদিকে সাধারণ জ্বর বা অসুস্থতার মতো মনে হলেও, পরে এটি ভয়াবহ রূপ নেয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে রোগীকে বাঁচানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণত কুকুরের কামড়ের মাধ্যমেই জলাতঙ্ক সবচেয়ে বেশি ছড়ায়।
তবে শুধু কুকুরই নয়, বিড়াল, বানর কিংবা অন্যান্য আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড় থেকেও এই রোগ ছড়াতে পারে। বিশেষ করে রাস্তার কুকুর বা টিকা না দেওয়া পোষা প্রাণী থেকে ঝুঁকি বেশি থাকে। অনেক সময় প্রাণীর লালা খোলা ক্ষতের সংস্পর্শে এলেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই জলাতঙ্ককে কখনোই ছোট করে দেখা উচিত নয়। একটি ছোট কামড়ও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসাই পারে এই মারাত্মক রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করতে।
জলাতঙ্কের কারণ
জলাতঙ্ক হওয়ার মূল কারণ হলো রেবিস ভাইরাস বা Rabies virus দ্বারা সংক্রমণ। এই ভাইরাসটি খুবই শক্তিশালী এবং মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। যখন এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে, তখন এটি ধীরে ধীরে স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের দিকে এগোতে থাকে। শুরুতে তেমন গুরুতর মনে না হলেও, একবার মস্তিষ্ক আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে যায়।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—এই ভাইরাস সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর লালার মাধ্যমে ছড়ায়। কোনো কুকুর, বিড়াল, বানর বা অন্য কোনো প্রাণী যদি জলাতঙ্কে আক্রান্ত থাকে, তাহলে তার লালার মধ্যে এই ভাইরাস উপস্থিত থাকে। সেই লালা যদি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে, তখনই সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটে কামড়ের মাধ্যমে। যখন আক্রান্ত প্রাণী কাউকে কামড়ায়, তখন তার লালা সরাসরি রক্তের সংস্পর্শে চলে আসে। এছাড়া আঁচড়ের মাধ্যমেও ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে যদি প্রাণীর নখে লালা লেগে থাকে। এমনকি শরীরে আগে থেকে কোনো কাটা বা ক্ষত থাকলে, সেখানে আক্রান্ত প্রাণীর লালা লাগলেও সংক্রমণ হতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, “কামড়টা তো ছোট ছিল, কিছু হবে না।” কিন্তু এই চিন্তাটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ ভাইরাস চোখে দেখা যায় না, আর ছোট ক্ষত দিয়েও এটি শরীরে ঢুকে পড়তে পারে। তাই যেকোনো ধরনের কামড়, আঁচড় বা সন্দেহজনক সংস্পর্শকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
ঝুঁকির কারণ
জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কিছু নির্দিষ্ট ঝুঁকির কারণ রয়েছে, যেগুলো আমাদের সমাজে খুবই সাধারণ। এসব কারণ ঠিকভাবে না বুঝলে এবং গুরুত্ব না দিলে রোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
প্রথমত, পথকুকুরের সংখ্যা বেশি হওয়া একটি বড় কারণ। আমাদের দেশে বিশেষ করে শহর ও গ্রামাঞ্চলে অনেক পথকুকুর ঘুরে বেড়ায়। এদের অধিকাংশই টিকা পায় না এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় না। ফলে যদি কোনো কুকুর জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়, তাহলে সে সহজেই মানুষের সংস্পর্শে এসে রোগ ছড়িয়ে দিতে পারে। অনেক সময় খাবার দিতে গিয়ে বা অসতর্ক আচরণের কারণে মানুষ কামড়ের শিকার হয়।
দ্বিতীয়ত, টিকা না নেওয়া বড় ঝুঁকি তৈরি করে। অনেকেই ভাবেন, “কামড় তো ছোট ছিল, টিকা নেওয়ার দরকার নেই।” আবার কেউ কেউ ভয়, কুসংস্কার বা অবহেলার কারণে হাসপাতালে যান না। কিন্তু জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে সময়মতো টিকা নেওয়াই জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়। টিকা না নিলে ভাইরাস শরীরে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তখন আর কিছু করার থাকে না।
তৃতীয়ত, শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ শিশুরা সাধারণত প্রাণীদের সঙ্গে খেলতে ভালোবাসে এবং বিপদের ধারণা ঠিকভাবে বোঝে না। অনেক সময় তারা কামড় বা আঁচড়ের ঘটনা বাবা-মাকে জানায়ও না। ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হয়ে যায়। এছাড়া শিশুদের শরীর তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।
সবশেষে, গ্রামাঞ্চলে সচেতনতার অভাব একটি বড় সমস্যা। অনেক জায়গায় এখনো মানুষ জানেন না যে, জলাতঙ্ক একবার হলে প্রায় নিশ্চিত মৃত্যু। অনেকে স্থানীয় ওঝা বা ভুল চিকিৎসার উপর নির্ভর করেন, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র দূরে হওয়া বা তথ্যের অভাবও বড় কারণ। তাই এই ঝুঁকিগুলো কমাতে হলে প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
লক্ষণ
জলাতঙ্কের লক্ষণ শুরুতে অনেক সময় সাধারণ অসুখের মতোই মনে হয়। তাই অনেকেই প্রথমদিকে বিষয়টি বুঝতে পারেন না। কিন্তু ধীরে ধীরে এই রোগ ভয়ংকর রূপ নিতে থাকে। প্রথম দিকে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা এবং শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা যায়। রোগী ক্লান্ত অনুভব করেন এবং অস্বস্তি বোধ করেন। অনেক সময় হালকা সর্দি বা ফ্লুর মতো মনে হতে পারে। কিন্তু এখানেই বিষয়টি থেমে থাকে না।
এরপর কামড় বা আঁচড়ের জায়গায় অস্বাভাবিক জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা ঝিনঝিন অনুভূতি হতে পারে। অনেক সময় ক্ষত শুকিয়ে গেলেও ভেতরে ভেতরে অস্বস্তি থেকে যায়। এই অনুভূতিগুলো আসলে ভাইরাস স্নায়ুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দেয়। সবচেয়ে ভয়ংকর ও পরিচিত লক্ষণ হলো পানি দেখলে ভয় পাওয়া, যাকে বলা হয় হাইড্রোফোবিয়া। রোগী পানি দেখতে বা পান করতে গেলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। গলা দিয়ে পানি নামাতে কষ্ট হয়, গলার পেশিতে খিঁচুনি শুরু হয়। শুধু পানি নয়, বাতাসের প্রবাহ বা শব্দেও অনেক সময় অস্বস্তি ও ভয় তৈরি হয়।
রোগ বাড়তে থাকলে খিঁচুনি, আচরণগত পরিবর্তন, অস্থিরতা, হঠাৎ রাগ বা চিৎকার, এমনকি বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। স্নায়বিক সমস্যার কারণে রোগী বাস্তবতা বুঝতে পারেন না, কখনো অস্বাভাবিক আচরণ করেন। শেষ পর্যায়ে পক্ষাঘাত, শ্বাসকষ্ট এবং কোমার মতো গুরুতর অবস্থা তৈরি হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একবার এই গুরুতর লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই লক্ষণ শুরু হওয়ার আগেই, অর্থাৎ কামড়ের পরপরই চিকিৎসা নেওয়াই একমাত্র নিরাপদ পথ।
প্রতিরোধের উপায়
জলাতঙ্ক এমন একটি রোগ, যেটি একবার পুরোপুরি প্রকাশ পেলে প্রায় নিশ্চিতভাবে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। কিন্তু সুখবর হলো—এই রোগ শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে খুব সহজেই জীবন বাঁচানো সম্ভব। তাই প্রতিরোধের উপায়গুলো জানা এবং মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো—কামড়ানোর সাথে সাথে ক্ষত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা। আক্রান্ত প্রাণী কামড় দিলে বা আঁচড় দিলে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধরে ক্ষতস্থান ধুতে হবে। অনেকেই ভাবেন, “এতক্ষণ ধোয়ার কী দরকার?” কিন্তু এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালোভাবে ধোয়ার ফলে ভাইরাসের একটি বড় অংশ ধুয়ে চলে যেতে পারে। সম্ভব হলে অ্যান্টিসেপটিক দ্রব্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু ধুয়ে ফেললেই দায়িত্ব শেষ নয়—এটা হলো প্রথম ধাপ।
দ্বিতীয়ত, যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে গিয়ে টিকা নিতে হবে। সময় নষ্ট করা যাবে না। অনেক সময় মানুষ লোকলজ্জা, ভয় বা অবহেলার কারণে দেরি করে ফেলে—যা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসক পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনীয় টিকা এবং প্রয়োজনে ইমিউনোগ্লোবুলিন দেন। সময়মতো এই চিকিৎসা নিলে জলাতঙ্ক সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তৃতীয়ত, পোষা প্রাণীকে নিয়মিত টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেকেই বাড়িতে কুকুর বা বিড়াল পুষি, কিন্তু তাদের টিকা দেওয়ার ব্যাপারে অবহেলা করি। এটি শুধু প্রাণীর জন্য নয়, পরিবারের সদস্যদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়মিত ভ্যাকসিন দিলে প্রাণী সুস্থ থাকে এবং রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা কমে যায়।
সবশেষে, সচেতনতা বৃদ্ধি খুবই প্রয়োজন। পরিবার, স্কুল, সমাজ—সব জায়গায় জলাতঙ্ক সম্পর্কে সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দিতে হবে। মানুষকে বুঝতে হবে যে, ছোট কামড় মানেই ছোট ঝুঁকি নয়। বিশেষ করে শিশুদের শেখাতে হবে কীভাবে প্রাণীর সঙ্গে আচরণ করতে হয় এবং কামড়ালে সঙ্গে সঙ্গে বড়দের জানাতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই—সচেতন থাকলেই নিরাপদ থাকা যায়। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপই পারে জলাতঙ্কের মতো ভয়ংকর রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করতে।
বাংলাদেশে পরিস্থিতি
বাংলাদেশে জলাতঙ্ক এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতি বছর দেশে অনেক মানুষ কুকুর বা অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও শহরের বস্তি এলাকাগুলোতে এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। পথকুকুরের সংখ্যা বেশি হওয়া, সঠিক টিকাদানের অভাব এবং সচেতনতার ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। যদিও আগের তুলনায় মৃত্যুর হার অনেক কমেছে, তবুও সম্পূর্ণভাবে এই রোগ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি।
প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ জলাতঙ্কের ঝুঁকিতে পড়ে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটে যান। অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা পান, কিন্তু দুঃখজনকভাবে কেউ কেউ দেরি করে ফেলেন। বিশেষ করে দূরবর্তী গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দূরত্ব ও তথ্যের অভাব বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে দেরি হয়।
তবে আশার কথা হলো—বাংলাদেশ সরকার জলাতঙ্ক প্রতিরোধে বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। সরকারি হাসপাতাল ও নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখন বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পথকুকুরের টিকাদান ও জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিও পরিচালিত হচ্ছে, যাতে রোগের বিস্তার কমানো যায়। বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে জানানো হচ্ছে, কামড়ের পর কী করতে হবে এবং কোথায় যেতে হবে।
তারপরও সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি। শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়—সাধারণ মানুষকেও দায়িত্ব নিতে হবে। পরিবারে, স্কুলে এবং সমাজে সবাইকে জলাতঙ্ক সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে ও জানাতে হবে। ছোট কামড়কেও গুরুত্ব দেওয়া, দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং পোষা প্রাণীকে নিয়মিত টিকা দেওয়া—এই অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে পারলেই বাংলাদেশ থেকে জলাতঙ্ক একদিন পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে।
উপসংহার
সবকিছু মিলিয়ে একটা কথাই পরিষ্কার—জলাতঙ্ক ভয়ংকর হলেও এটি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। এই রোগ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সচেতন হওয়াটাই বেশি জরুরি। কারণ আমরা যদি সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিই, তাহলে জলাতঙ্ক আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
কামড় বা আঁচড়ের ঘটনাকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। অনেক সময় ছোট ক্ষত বলেই মানুষ গুরুত্ব দেয় না, কিন্তু জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে এই অবহেলাই বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সময়মতো ক্ষত ধোয়া, দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে টিকা নেওয়া—এই কয়েকটি সহজ পদক্ষেপই পারে একটি জীবন বাঁচাতে। মনে রাখতে হবে, লক্ষণ শুরু হওয়ার আগেই চিকিৎসা নিতে হবে। একবার গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে তখন আর কিছু করার থাকে না।
সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হলো সচেতনতা। পরিবারে, স্কুলে, সমাজে—সব জায়গায় জলাতঙ্ক সম্পর্কে সঠিক ধারণা ছড়িয়ে দিতে হবে। শিশুদের শেখাতে হবে প্রাণীর সঙ্গে নিরাপদ আচরণ এবং কোনো কামড় বা আঁচড় হলে সঙ্গে সঙ্গে বড়দের জানানো। পোষা প্রাণীর নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। জলাতঙ্ককে ভয় না পেয়ে, তাকে সম্পর্কে জানি এবং সাবধান থাকি। কারণ সচেতন মানুষই নিরাপদ মানুষ। সচেতন থাকলেই জলাতঙ্কের মতো মারাত্মক রোগ থেকেও নিজেকে এবং পরিবারকে রক্ষা করা সম্ভব।



